নিজস্ব প্রতিবেদক:
শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এখন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জটিল ফাঁদে আটকে পড়েছে। ৮৬০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে উঠেছে প্রতারক সিন্ডিকেট । অভিযোগ উঠেছে, নকশায় নেই, ভিডিও জরিপে নেই—এমন ‘অস্তিত্বহীন’ স্থাপনার বিপরীতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। কোথাও একতলা ভবনকে দোতলা দেখানো হয়েছে, কোথাও ছোট গাছকে বিশাল গাছ হিসেবে দেখিয়ে বানানো হয়েছে অস্বাভাবিক বিল।
অভিযোগ উঠেছে, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার একাংশ, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ও অসাধু সুবিধাভোগীদের যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ কার্যত ‘হরিলুট’ হয়েছে। ফলে জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ ৪৩০ কোটি টাকা শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ হয়েছে মাত্র ৫১ শতাংশ জমি।
অন্যদিকে প্রকল্পের ছয় বছর পার হলেও ৩৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ এগিয়েছে মাত্র ছয় কিলোমিটার। তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে। এখন আবার নতুন করে আরো ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব প্রস্তুত করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।
সওজ সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২০০১ সালে চালু হয় শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক। সময়ের সঙ্গে সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেটিকে প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় তৎকালীন সরকার।
২০১৯-২০ অর্থবছরে শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৮৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চার লেনের সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণে ৪৩০ কোটি এবং দুই লেনবিশিষ্ট ৩৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণে আরো ৪৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা প্রথমে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে তা বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে ঠিকাদাররা পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরুই করতে পারেননি। ফলে ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ছয় কিলোমিটার সড়কের কাজ হয়েছে।